পোস্টগুলি

আপনি কি নিজের অজান্তেই মুনাফিক্বদের একজনে পরিণত হয়েছেন?

আজকে মুসলিম উম্মাহ যখন সেকুলারদের সাথে রক্তাক্ত যুদ্ধে আক্রান্ত, তোমার জন্য এটা জরুরি যে তুমি নিজের অবস্থান সম্পর্কে যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে নাও যে নিজের অজান্তে তুমি মুনাফিক্বদের একজনে পরিণত হও নি, যাদের ব্যাপারে কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “ওরা হলো যে সব লোক, যারা ঘরে বসে থেকে নিজেদের ভাইদের সম্বন্ধে বলে, যদি তারা আমাদের কথা শুনত, তবে নিহত হত না। তাদেরকে বলে দিন, তাহলে তোমাদের উপর থেকে মৃত্যুকে ঠেকাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক” [সূরা আল ইমরানঃ ১৮৬]। মনে রাখবেন, নিফাক্ব তার কদর্য রুপ নিয়ে তখনই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যখন মুসলিমরা কোণঠাসা থাকে এবং শত্রুরা চারিপাশ থেকে তাদের ঘিরে ফেলে। কাজেই সেই সব মুনাফিক্বদের মত হয়ো না যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, ”… তোমাদের বিরুদ্ধে জড় হয়েছে বহু লোক, অতএব তাদের ভয় করো (এবং ঘরে ফিরে যাও)…”, বরং সেইসব মু’মিনদের মত হও যাদের একথা শুনে “…ঈমান বেড়ে গেল, আর তারা বললোঃ আল্লাহ্ আমাদের জন্য যথেষ্ট ও তিনি অতি উত্তম রক্ষাকারী…” [সূরা আলে-ইমরানঃ ১৭৩]। বনী ঈসরাঈলের মত দুর্বলচিত্তের মানুষ হয়ো না, যারা ফির’আউন ও তার সেনাবাহিনীকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে বলে উঠেছিল, “…আ...

মুসলিমাহ নারীদের কাজ “বাচ্চা জন্ম দেওয়া” এবং “স্বামীকে খুশি করা”? (লেখিকা- আনিকা ওয়ারদা তুবা)

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রজিম। বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম মুসলিমাহ নারীদের কাজ “বাচ্চা জন্ম দেওয়া” এবং “স্বামীকে খুশি করা” বলতে শুনলেই আমাদের মুসলিমদের গায়ে যেন দাউদাউ করে আগুন জ্বলে যায়! কেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কি এটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব করে দেন নি? আল্লাহর তা’আলার ইবাদতের জন্য আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সত্যি কথা। কিন্তু একজন নারীর প্রধান দায়িত্ব কি?? যেই চারজন নারী জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ আসনে থাকবেন, যারা দুনিয়া ও আখিরাতে সবচেয়ে সম্মানিত, যাদের মর্যাদা পুরো পৃথিবীর সব নারীর মধ্যে সবচাইতে বেশি; তাঁরা এই অবস্থানে কেন আছেন?? কি করেছিলেন তাঁরা? কীভাবে আল্লাহর ইবাদত করেছেন যে তাদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে এতোটা বেড়ে গেছে?? এই চারজনের প্রত্যেকেই তাদের মা এবং স্ত্রী হবার কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়েই এই মর্যাদার উপযোগী হয়েছেন। মারইয়াম (রা) হলেন সেরাদের সেরা। তিনি সমগ্র বিশ্বের নারীদের মাঝে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাকে নিয়ে কুর’আনে বলা হয়েছে - “হে মারইয়াম, আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের ঊর্ধ্বে মনোনীত করেছেন।...

ব্যাচেলর লাইফ ফ্যাক্টসঃ কাছ থেকে দেখা গুনাহের এক অন্ধকার জগত

যখন স্কুল-কলেজে পড়তাম তখন জানতাম গাঁজা খেতে হলে অনেক খারাপ হওয়া লাগে, যারা খায় তারা অনেক খারাপ স্বভাবের হয়! কিন্তু ভার্সিটি লাইফে উঠার পর ব্যাচেলর লাইফে থাকার সুবাধে দেখলাম আশেপাশে অনেকেই এতে অভ্যস্ত! সিগারেটের প্যাকেট চিড়ে তার মধ্যে গাঁজার উপাদান দিয়ে সিগারেট খাওয়ার মতই এই হারাম জিনিস খেতে হয় তাও জানলাম। তাদের অনেকেই আবার পড়াশোনায়ও ভালো,বন্ধুবান্ধবও ভালো হিসেবে চিনে। আবার অনেকের মাসে কম করে হলেও একবার সিসা না খেলে চলেই না! বিশেষ বিশেষ অকেশনে ড্রিঙ্কস খাওয়া তো আছেই। রেস্টুরেন্টে গিয়ে হাতে বিয়ার নিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়া তো আছেই। যদিও সিগারেট খাওয়া হারামের পর্যায়ে পরে (অনেক আলিমের মতে মাকরুহে তাহরিমি তথা হারামের কাছাকাছি) তারপরও গাঁজা এর চেয়েও মারাত্মক গুনাহ কেননা এতে মানুষ নেশাগ্রস্থ হয়ে যায়। “আর প্রত্যেক নেশার বস্তুই হারাম।”(বুখারীঃ হাদিস নং ৫৬৮২, আবূ দাঊদঃ হাদিস নং ৩৬৪৩) “যা অধিক পরিমাণে পান করলে নেশার সৃষ্টি হয় তা অল্প পরিমানে পান করাও হারাম।”[আবূ দাঊদঃহাদিস নং ৩৬৪০] খেলায় জুয়া ধরা নতুন দেখা আরেক হারাম কাজ। বিশ্বকাপ হোক বা যেকোন ম্যাচ হোক বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগ/স্প্...

ফজরের সলাতের জন্য জেগে উঠার কিছু কার্যকরী কৌশল

আমরা যারা নিয়মিত সলাত আদায় করার চেষ্টা করি, আমাদের সবগুলো সালাত ঠিক থাকলেও ‘ফজরের সলাত’ নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। অনেকেই অনেক চেষ্টা করেও পারি না ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠতে। কীভাবে করা যায় এ সমস্যার সমাধান? আমি শুধু দু’ একদিনের কথা বলছি না, বলছি প্রতিদিনকার কথা। আসুন জেনে নেই এ ব্যাপারে কিছু কার্যকরী কৌশল। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা যখন প্রতিদিন সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করি, দিনে কমপক্ষে ১৭ বার, আমরা এই আয়াতটিও তিলাওয়াত করিঃ “আমরা একমাত্র তোমারি ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারি সাহায্য প্রার্থনা করি।” [সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৫] আমরা কি সত্যিই আল্লাহর ইবাদত করতে চাই? “অবশ্যই!” তাহলে আল্লাহর সাহায্যও চাই? “হুম!” আবার ফজরের সলাতের জন্যও জেগে উঠতে চাই? “জ্বী, ভাই!” কিন্তু তারপরও আমরা পারি না কেন? কারণ, আমাদের চাওয়ায় আন্তরিকতার অভাব। আপনার কি কখনও ঘুমাতে যাওয়ার মুহূর্তে এমন অনুভূতি হয়েছে যে, আপনি অবশ্যই ফজরের সলাতের জন্য উঠবেন কিংবা আগে থেকেই আপনি জানতেন সেদিন বেশি ঘুমাবেন? নিচের দৃশ্যপট দুটি কল্পনা করার চেষ্টা করুন। আমি মনে করি, আমরা প্রায় সকলেই এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি। দৃশ্যপ...

কিছু বোরকা পরা বোনের আচরনের জন্য বোরকাকে দায়ী করা যাবে না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে- বাংলাদেশে পর্দা করেন কিংবা বোরকা পরেন এমন নারীর সংখ্যা নগন্য নয়। মুসলিম নারীদের অনেকেই আলহামদুলিল্লাহ পর্দা করেন। দেশের যে কোনো প্রান্তে গেলেই অহরহ চোখে পড়ে বোরকা পরা নারী। সন্দেহ নেই বোরকা পরা নারীকে অন্য যে কোনো পোশাক পরিহিত নারীর চেয়ে শালীন ও সমীহযোগ্য দেখায়। তাদের দেখলে কেবল অসুস্থ মানসিকতার লোকরা ছাড়া সবাই মনে মনে শ্রদ্ধা বোধ করেন। মুসলিম সমাজে পথে-ঘাটে তাদের সম্মান দেখানো হয়। গাড়িতে সিট না পেলে বেপরোয়া তরুণরাও তাদের জন্য নিজের আসন ছেড়ে দেয়। যারা সত্যিকার পর্দা করেন রাস্তা-ঘাটে তাদের পিছু লাগে না বখাটে যুবকরাও। এটিই বাংলাদেশের স্বাভাবিক চিত্র। তবে বাংলাদেশের এই স্বাভাবিক চিত্রের উল্টোপিঠও আজকাল দেখা যাচ্ছে। এ যুগের বোরকা পরা মেয়েদের পেছনেও ইদানীং বখাটে ছেলেরা ঘুরঘুর করছে। বোরকা হেফাযতের কারণ হওয়ার পরও অনেক বোরকাবৃতা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গৃহবধূ থেকে নিয়ে স্কুল-কলেজ এমনকি মাদরাসার ছাত্রীরাও সাম্প্রতিককালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারাও আজকাল খবরের শিরোনাম হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আসলে স্বতন্ত্রভাবে ভাবা দরক...

শবে মিরাজঃ স্রষ্টার পানে এক বিস্ময়কর যাত্রা

“শব” ফার্সি শব্দ। এর অর্থ রাত্রি। “মিরাজ” শব্দটির আরবী অর্থগুলো হচ্ছে সিঁড়ি বা সোপান, ঊর্ধ্বে আরোহণ, ওপরে ওঠা। "লাইল" আরবী শব্দ। এর অর্থ রাত। আভিধানিক অর্থে লাইলাতুল মিরাজ বা শবে মিরাজ বলতে আরোহণের রাত্রি বোঝায়। শারিয়াহর পরিভাষায় রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রাতে মহান আল্লাহ্‌র ডাকে সাড়া দিয়ে প্রথমে বুরাক ও পরে রফরফ নামক বাহনের মাধ্যমে সাত আসমানের উপর পরিভ্রমণ করে অবশেষে মহান আল্লাহ্‌র সাক্ষাত পেয়েছিলেন এবং আখিরাতের অনেক অজানা জিনিস স্বচক্ষে দেখেছিলেন তা লাইলাতুল মিরাজ নামে পরিচিত। মহান আল্লাহ্‌র ভাষায়, “পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রিবেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।”(সূরা বনি ইস্রাঈলঃ ১) ২৭ শে রজবেই কি লাইলাতুল মিরাজ হয়েছিল? কোনো কোনো বইয়ে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে তা প্রসিদ্ধ যে, মিরাজের ঘটনা রজব মাসের ২৭ তারিখেই সংঘটিত হয়েছিল। এ কথাটি শুধু...

আমরা কী ধরণের মুসলমান ?

বর্তমানে আমাদের সমাজে এক ধরনের লোক দেখা যায় তারা নিজেদের বিবেকবান বলে দাবী করেন।আমরা অনেকেই মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহন করেছি বলে ভাব দেখাই ইসলাম আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। অন্য কেউ ইসলাম নিয়ে কিছু বলতে এলে আমরা অনেকে বিরক্ত বোধ করি ।আবার কিছু মানুষ তাদের টিটকারী মারতে খুব মজা পান।এরা সারাদিন গান-বাজনা শোনে তখন খারাপ লাগে না আর কেউ ধর্মের কথা বললেই বলা শুরু করে নিজের চরকায় তেল দাও,ফতোয়াবাজি বন্ধ করো,আইছে হুজুর,এগুলো আমরা জানি,এখন সময় নাই…ইত্যাদি ।আর কিছু মানুষ শুধু এসব বলেই ক্ষান্ত হন না ।তারা ইসলামিক ভাব-ধারী মানুষের ভুল-গুলি খুজতে থাকে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে ; وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ "আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম। (৩;১০৪) আল্লাহ পাক এই আয়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশ দান করেছেন ।উহা এই যে,উম্মতের মধ্যে একটি বিশেষ দল থাকতে হবে য...