অনেক ভাই ইনবক্সে নক করে জানতে চান , কিভাবে পর্ণ মুভির আসক্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বা মাস্টারবেশন থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব । এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আর্টিকেল অনুবাদ করে ফেলেছি । সেগুলো পড়ে দেখতে পারেন আমাদের ব্লগ থেকে বা ফেসবুক পেইজের টাইমলাইন ঘেঁটে । অহেতুক সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করে আপনাদের বিরক্ত করলাম না । এখানে আমরা ইনশাআল্লাহ আরো কয়েকটা টিপস দেওয়ার চেষ্টা করব ।
মাস্টারবেশন বলুন আর পর্ণ আসক্তি বলুন এর যেকোন একটি ছাড়তে চাইলে আপনার প্রথমেই দরকার অসীম ধৈর্য , কঠোর মানসিক দৃঢ়তা এবং আল্লাহ’র (সুবঃ) উপর ভরসা করা । কখনোই তাড়াহুড়া করা যাবে না । সময় লাগবে অনেক । পর্ণ মুভির আসক্তি হিরোইন আসক্তির মতো । আপনি একবার চিন্তা করেন তো , কোন হিরোইন আসক্ত কি একেবারে হুট করে হিরোইন খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারবে ? – পারবে না । তাহলে আপনি কি করে ভাবেন যে আপনি হুট করেই একদিন পর্ণ মুভি দেখা বন্ধ করে দিতে পারবেন? আপনার ব্রেইন এবং শরীর একটা সিস্টেমের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে গেছে । আপনি হঠাত করেই সেই সিস্টেম বদলিয়ে ফেলতে পারবেন না । ধীরে সুস্থে আগাতে হবে । এবং পুরোটা সময় আপনাকে আল্লাহ’র (সুবঃ) কাছে সাহায্য চাইতে হবে এবং ফোকাস ধরে রাখতে হবে । ফোকাস হারালেই পা পিছলে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা । (যারা পাক্কা ঈমানদার , সাচ্চা মুসলমান তাঁদের পক্ষে একবারে হুট করেই যেকোন অভ্যাস পরিবর্তন করে ফেলা সম্ভবও । উপরের কথাগুলো এবং এই আর্টিকেলের টিপস গুলো শুধু আমার মতো দুর্বল ঈমানের লোকদের জন্য)
তো আপনি ধৈর্য , মানসিক দৃঢ়তা আর আল্লাহ’র (সুবঃ) ওপর তাওয়াক্কুল করার সবক নিয়ে নিয়েছেন । এবার আপনার পালা মুক্ত বাতাসের খোঁজে বেরিয়ে পড়ার । একটা পেন্সিল এবং পেইজ নিয়ে বসে যান নিরিবিলি কোন রুমে । তারপর স্মৃতি খুঁড়ে বের করে আনুন মাস্টারবেশন বা পর্ণ মুভি দেখার ঠিক পরের অনূভুতি গুলো । পেইজে বিস্তারিত লিখুন মাস্টারবেশন করার পর বা পর্ণ মুভি দেখার পর আপনার কতটা খারাপ লাগে , কতবার নিজেকে ধিক্কার দেন , কতবার আপনার মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করে । কেন আপনি মাস্টারবেশন বা পর্ণ মুভি দেখা ছাড়তে চান এক এক করে লিখুন সবকিছুই , খুঁটিনাটি কিছুই বাদ দিবেন না । খুঁজে বের করুন কেন আপনি মাস্টারবেট করেন বা পর্ণমুভি দেখেন । স্বযত্নে রেখে দিন এই কাগজের টুকরো । পরে আমাদের কাজে লাগবে এটি ।
এবার একটি ডায়েরী বা খাতা নিয়ে বসুন । তারপর লিখুন, যে বছর থেকে আপনি মাস্টারবেট করা শুরু করেছেন বা পর্ণ দেখা শুরু করেছেন সেই বছর এবং তারপাশে লিখবেন দিনে কতবার মাস্টারবেট করতেন বা পর্ণমুভি কতক্ষন দেখতেন । পরের লাইনে তার পরের বছরের জন্য । পরের লাইনে তার পরের বছরের জন্য । এভাবে সিরিয়াল অনুসারে বর্তমান বছর পর্যন্ত । এটিও ভালোমত রেখে দিন । এই ডায়েরী বা আগের কাগজের টুকরো অন্য কারো হাতে পড়ে মান সম্মানের বারোটা বাজলে কিন্তু কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। আগে থেকেই বলে দিলাম, হু ।
এবার আপনার টার্গেট সেট করার পালা । আপনি যদি প্রত্যেকদিন মাস্টারব্রেট করেন/ পর্ণ দেখেন তাহলে নিজেকে টার্গেট দিন , এখন থেকে আগামী ৩ দিন আমি মাস্টারব্রেট করব না/ পর্ণ দেখব না । টার্গেট পূরন না করতে পারলেও সমস্যা নাই । আবার এই তিন দিনের টার্গেট সেট করুন। এই টার্গেট পূরন করতে পারলে নতুন টার্গেট ঠিক করুন আমি আগামী ৭ দিন মাস্টারব্রেট করব না/ পর্ণ দেখব না । এটা পূরন করতে পারলে আবার নতুন টার্গেট ঠিক করুন। আমি আগামী ১৪ দিন মাস্টারব্রেট করব না । এভাবে চালিয়ে যেতে থাকেন । আর হ্যাঁ প্রতিবার টার্গেট পূরন করার পর নিজেকে পুরষ্কার দিতে ভুলবেন না । চকোলেট খেতে পছন্দ করেন, তো বেশী বেশী চকোলেট খান । নান্নার বিরিয়ানীর কথা শুনলেই জিভে জল চলে আসে , তাহলে ঘুরে আসুন নান্না থেকে । (খাওয়া দাওয়ার কথা শুনে আবার ভেবে বসবেন না আমি খুব পেটুক )
প্রত্যেক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পর্ণ মুভি দেখার পর বা মাস্টারবেট করার পরের অনুভূতি আপনি যে কাগজের টুকরোতে লিখেছিলেন ঐটাতে একবার করে চোখ বুলাবেন । পর্ণ মুভি দেখার জন্য বা মাস্টারবেট করার জন্য মন আঁকুপাঁকু করলে দৌড়ে যেয়ে গোপন যায়গা থেকে বের করে আনুন ঐ কাগজের টুকরো । মনযোগ দিয়ে পড়ুন । আপনি এখন খুবই ক্রিটিকাল অবস্থায় আছেন । এইখানে যদি আপনি আপনার প্রবৃত্তির কাছে হেরে যান তাহলে অবস্থা খুবই খারাপ হবে । আপনার সকল ইচ্ছা শক্তি এককরে লড়াই করুন প্রবৃত্তির সাথে । আর আল্লাহকে (সুবঃ) ডাকতে থাকুন অনবরত।
প্রত্যেক সপ্তাহ বা দু সপ্তাহ অন্তর সেই ডায়েরী নিয়ে একবার বসুন । তারপর এই কয়েকদিনের মধ্যে আপনার পুরো অবস্থার রিপোর্ট লিখে ফেলুন । এভাবে দুই এক মাস কাটানোর পর ডায়েরীতে লিখা আগের বছরগুলোতে মাস্টারবেশন করার রেট / পর্ণ মুভি দেখার সময়ের সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা করুন । ইনশা আল্লাহ দেখবেন বেশ পার্থক্য এসেছে । মাস্টারবেট করার রেট বা পর্ণ মুভি দেখার সময় অনেকটাই কমে এসেছে – আল্লাহ চাইলে হয়তো একেবারেই কমে গেছে । (দেড় দুই মাস যাবার পরেও আপনার অবস্থার উন্নতি না হলে চিন্তার বিষয় । হয়তো আপনার নিয়তের মধ্যে ঘাপলা আছে , আপনি হয়তো ঠিকমতো ফোকাস ধরে রাখতে পারছেন না বা আল্লাহর উপর ঠিক ভরসা করতে পারছেন না । আমাদের দেখানো পদ্ধতিটা আবার প্রথম থেকে প্রয়োগ করা শুরু করেন একটু বেশী ফোকাসড হয়ে । কাজ করবেই ইনশা আল্লাহ )
এভাবেই আল্লাহ’র (সুবঃ) কাছে অনবরত সাহায্য চেয়ে , তাওয়াক্কুল করে এবং আমাদের দেখানো এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি মাস্টারবেশন / পর্ণ মুভির সাথে যুদ্ধে জয়ী হবেন । আমাদের আলোচনা এখানেই শেষ । আল্লাহ হাফেজ । আপনাদের জন্য বোনাস হিসেবে থাকলো AL Mujahid Arman ভাই এর টাইমলাইন থেকে সংগ্রহ করা নীচের পোস্টটা ।
“আজও একটি জানাযার নামায পড়লাম। শুনলাম, লোকটি অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হঠাৎ মারা গেছে! কিয়ামতের দিন লোকটি ঐ অবস্থাতেই উঠবে, যেভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। না'উযুবিল্লাহ! এখনো যারা অশ্লিল ভিডিও বা লেখা দেখছেন/পড়ছেন, অর্ধনগ্ন বেহায়াদের গান উপভোগ করছেন- সতর্ক হয়ে যান। যেই মুহুর্তে আপনি একটি জঘন্য ভিডিও ক্লিপ দেখছেন ঐ মুহুর্তেই আপনার মৃত্যুর ডাক আসতে পারে! ভেবে দেখুন আপনাকে তখন পৃথিবীবাসি ধিক্কার জানাবে। সেদিন এক ভাই আমাকে বললেন যে, তার কম্পিউটারে নাকি কয়েকশ জিবি এসব অশ্লিল ভিডিও ছিল। তিনি কিছুদিন হলো, তাওবাহ করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেন দেরি করবেন? একটিবার ভেবে দেখুন ভাই, মাত্র একটিবার। এগুলো দেখে অস্থিরতা ব্যতিত আর কী কামাই করতে পেরেছেন? এগুলো দেখে হয়ত সাময়িক আনন্দ পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু? উল্টো মানসিকভাবে অস্থিরতা ও হতাশা ছাড়া আর কী পাওয়া যায়? মোবাইলের হিস্টোরি খুব সহজেই ডিলিট করে দিচ্ছেন লোক-লজ্জার ভয়ে; কিন্তু আমলনামা থেকে কীভাবে ডিলিট করবেন? আল্লাহ থেকে কীভাবে লুকাবেন? সবই তো বিচার দিবসে ফাঁস হয়ে যাবে! বাঁচার উপায় আছে ইনশাআল্লাহ। ১। একদম সময়মত খুশু-খুযুর সহিত পাঁচ ওয়াক্ত সলাত পড়ুন। ২। গোনাহের সকল উপকরন দূরীভূত করুন। ৩। জিরো ডট ফেইসবুক ব্যবহার করুন। ৪। শেষ রাতের সলাত কন্টিনিউ করুন। ৫। মাঝে মধ্যে রোযা রাখুন। (শাওয়ালের ৬টি রোযা রাখতে পারেন। হাদিস অনুযায়ি এক বছর রোযা রাখার নেকি পাবেন।) ৬। দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করুন। এটি সবচে' জরুরি। ৭। মোবাইলের হিস্টোরি ডিলিট না করে প্রতিদিন এক দীনি ভাইকে চেক করতে দিন। ৮। চোখ দিয়ে অধিক পরিমাণে অশ্রু ঝরান আল্লাহর কাছে দু'আর সময়। ৯। যখনই বাজে চিন্তা মাথায় আসে, সাথে সাথে উঠে অযু করুন, প্রয়োজনে নামায পড়ুন। ' আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।”
সম্পূর্ণ লেখাটিঃ http://lostmodesty.blogspot.com/2015/12/blog-post_21.html
আরো পড়ুন – ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ http://lostmodesty.blogspot.com/2015/04/blog-post_48.html
বৃত্তের বাইরেঃ পর্ণগ্রাফি থেকে মুক্তি http://lostmodesty.blogspot.com/2015/04/blog-post_6.html
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন