তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই কেন?

“তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই কেন?” খুবই অস্বাভাবিক এই প্রশ্নটা আমরা প্রায়ই করে কিংবা শুনে থাকি। বিভিন্নভাবে এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেই দিয়ে থাকেন। কিছু কমন উত্তর হতে পারে- জনৈক ১: আমি প্রয়োজন মনে করি না। যেহেতু এ ব্যাপারে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেহেতু আমার কোন আগ্রহ নেই। জনৈক ২: আমার পরিবার এটা মেনে নেবে না। তাই নেই। জনৈক ৩: এজন্য অনেক খরচাপাতির দরকার পরে। তাই নেই। জনৈক ৪: গার্লফ্রেন্ড থাকাটা আমার কাছে লজ্জা লজ্জা লাগে। জনৈক ৫: আমি মেয়েদের বিশ্বাস করি না। এরা নির্ঘাত স্বার্থপর। জনৈক ৬: আমি আল্লাহকে ভয় করি। তিনি এই ধরণের সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করেছেন। আর আমি তাঁর প্রতিই আত্মসমর্পণকারী। যদিও এদের কারও গার্লফ্রেন্ড নেই, প্রথম ৫ জন এরপরেও দোষী, কারণ ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে শেষটা ছাড়া বাকী কোন কারণই সিদ্ধ নয়। আমরা যদি প্রদত্ত যুক্তিগুলো আরেকটু গভীরভাবে দেখি তবে দেখতে পাবো যে প্রথম ৫টা যুক্তিতে “গার্লফ্রেন্ড না থাকার কারণ”এর ক্ষেত্রে জিএফ থাকা “অনুমোদিত নাকি নিষিদ্ধ” এই যুক্তির ধার ধারেনি। বরং এগুলো হলো অনৈর্ব্যক্তিক/ক্ষণস্থায়ী/আপেক্ষিক যা যেকোন সময় বদলাতে পারে। এই সংজ্ঞা বা কারণগুলো নির্ভুল নয়, বরং পরিবর্তনযোগ্য আর প্রকৃতিগতভাবেই আপেক্ষিক। অর্থাৎ অন্যান্য বিষয় যেমনঃ সামাজিক মূল্যবোধ, আর্থিক অবস্থা অথবা অন্যান্য কিছুর বদলানোর সাপেক্ষে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, যদি প্রথম ব্যক্তির যদি কোনভাবে মেয়েদের প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয়, সে আবারো এটা শুরু করবে। দ্বিতীয় ব্যক্তির ক্ষণস্থায়ী অনুভব “উচিত নয়” থেমে যাবে যদি তার পরিবার মারা যায় কিংবা তাকে অনুমতি দেয় অথবা যদি সে কোনভাবে পরিবারকে অগ্রাহ্য করতে যথেষ্ট সাহসী হয়ে যায়। তৃতীয় ব্যক্তির কাছে টাকা আসলে সে গার্লফ্রেন্ড খোঁজা শুরু করবে। চতুর্থ ব্যক্তি কিছুটা এবং নির্লজ্জ সাহসী হলেই কেল্লা ফতে। পঞ্চম ব্যক্তি “বিশ্বাসযোগ্য” কোন মেয়ের অপেক্ষায় আছেন। “কী করা উচিৎ নয়” এর সংজ্ঞা সময়, স্থান, ব্যক্তি, আর পরিস্থিতির সাথে সাথে বদলানোর কথা তো ছিল না। যদি বদলায়ই, তাহলে “নৈতিকতা” হয়ে যাবে অবাস্তব একটা ধারণামাত্র। আর এটা বারবার পরিবর্তিত হবে। সুতরাং “সামাজিক মূল্যবোধ”, “সামাজিক চাপ”, “ব্যক্তিগত ইচ্ছা”, “আমার মনে হয়” ইত্যাদি হলো ঠিক-বেঠিক অর্থাৎ কোনটা করা উচিৎ আর কোনটা নয় তা নির্ণয়ের ভুল মাপকাঠি। ষষ্ঠ ব্যক্তির কাছে সঠিক উত্তরটি রয়েছে। কাজেই তার কাজটাও সঠিক। যদিও অন্য পাঁচজনের কারোই গার্লফ্রেন্ড নেই, যেমনটা তার নেই, তথাপি মূলত তারা তার থেকে আলাদা। কারণটা হলো তাদের মাপকাঠির ভিন্নতা। “তারা সবাইই এক” এটা বলে দেওয়া ভুল। কারণ এর মানে এও দাঁড়ায় যে “একজন মুসলিম আর একজন খ্রিষ্টান উভয়েই সমান কারণ তারা যথাক্রমে মসজিদ এবং গীর্জায় যায় (যদিও তাদের বিশ্বাস মৌলিকভাবে আলাদা)”!!! আমাদের অর্থাৎ মুসলিমদের আল্লাহর রায় ছাড়া অন্যকারও রায় মানার সুযোগ নেই কারণ আমরা কেবল আল্লাহর কাছেই আত্মসমর্পণ করি। “আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে তালাশ করব? অথচ তিনিই তোমাদের নিকট বিস্তারিত কিতাব নাযিল করেছেন।” [সুরা আনআম ৬: ১১৪] কেবলমাত্র আল্লাহরই হক রয়েছে বিচারের, রায় দেওয়ার কোনটা হালাল আর কোনটা হারাম, কী করা যাবে আর কী নয়। “কাজেই তুমি আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী লোকদের বিভিন্ন বিষয়ের ফায়সালা করো এবং যে সত্য তোমার কাছে এসেছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না।” [সুরা মায়িদাহঃ ৪৮] “শাসন কর্তৃত্ব আল্লাহ‌ ছাড়া আর কারোর নেই।”[সুরা ইউসুফঃ ৪০] আমাদের জন্য একমাত্র সঠিক মানদণ্ড হচ্ছে ইসলামী শরী’আহ। আল্লাহ বলেন, “না, হে মুহাম্মাদ! তোমার রবের কসম, এরা কখনো মু’মিন হতে পারে না যতক্ষণ এদের পারস্পরিক মতবিরোধের ক্ষেত্রে এরা তোমাকে ফায়সালাকারী হিসেবে মেনে না নেবে, তারপর তুমি যা ফায়সালা করবে তার ব্যাপারে নিজেদের মনের মধ্য যে কোনো প্রকার কুণ্ঠা ও দ্বিধার স্থান দেবে না, বরং সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।” [সুরা আননিসাঃ ৩৬] কুর’আন দিয়েই আমাদের নিজের কাজকর্মকে যাচাই করে নেওয়া দরকার। পারিবারিক মূল্যবোধ কিংবা সামাজিক মূল্যবোধ দিয়ে নয়। শরী’আহই আমাদের পথ দেখাবে, কোন ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা সামাজিক আইন বা ব্যবস্থা নয়। “তুমি কি কখনো সেই ব্যক্তির অবস্থা ভেবে দেখেছো যে তার প্রবৃত্তির কামনা বাসনাকে খোদা বানিয়ে নিয়েছে আর জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে গোমরাহীর মধ্যে নিক্ষেপ করেছেন, তার দিলে ও কানে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং চোখে আবরণ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ ছাড়া আর কে আছে যে তাকে হিদায়াত দান করতে পারে? তোমরা কি কোন শিক্ষা গ্রহণ করো না?” [সুরা জাসিয়াহঃ ২৩] আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিদায়াহ দিক যাতে করে আমরা সঠিক পদ্ধতিতে চিন্তা করতে পারি। মূলঃ জিম তানভীর ভাই ইংরেজি থেকে অনুবাদঃ রাফিজ ইবন ‘আব্দুল করিম

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পুরুষদের জন্য সিল্ক ব্যবহার করা হারাম।

ফাতিমার ঐতিহাসিক সেই চিঠি ও "Happy New Year''

বিয়ে, দ্বীনদার স্ত্রী এবং মানসিক সাপোর্ট !