পোস্টগুলি

আমাদের ঘর কি ইসলামি ঘর?

আল্লাহ সুবহ়ানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের ঘরে বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন…” [১] প্রশ্নটা হয়তো শুনতে কিছুটা অদ্ভুত লাগতে পারে। অনেকে হয়তো শোনা মাত্রই বলে বসবেন, “আমার বাড়ি অবশ্যই ইসলামিক বাড়ি!! আমরা মুসলিম পরিবার, কাজেই আমাদের বাড়ি পুরোপুরি ইসলামিক!!” আসলেই কি? নিচে দেওয়া ছোট্ট চেকলিস্টের সাথে মিলিয়ে দেখুন তো আসলেই আপনার বাড়ি ইসলামিক কি না? ১. আমি একজন ধার্মিক জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছি ধার্মিক ও ন্যায়নিষ্ঠ জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে অনেক হ়াদীস়েই গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে। কেন বলা হয়েছে সেটাও স্পষ্ট: সাধারণ জীবনসঙ্গীদের তুলনায় একজন ধার্মিক জীবনসঙ্গী সংসারে অধিক সুখ ও পরিতৃপ্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবে। স্ত্রী ধার্মিক হলে অন্যান্য স্ত্রীদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে। ধার্মিক স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে গড়ে তুলতে পারবে একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও ধার্মিক পরিবার। আর এটাই ইসলামিক বাড়ির মূল ভিত্তি। ২. আমি আমার জীবনসঙ্গীকে সাহায্য করি প্রত্যেকের নিজ নিজ কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন, দুজনের মধ্যে মমতা ও ভালোবাসার বন্ধনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক একটি পরিবার। অন্যান্য আধ...

নারী ও পুরুষদের মাহরাম

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে- সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের জন্য। আর দরুদ ও সালাম নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এবং তার বংশধর ও সাহাবীগণের উপর। নারী ও পুরুষদের মাহরাম [যাদের একে অপরের সহিত বিবাহ বন্ধন হারাম এবং তাদের পরস্পরের সাথে সাক্ষাৎ জায়েয] এই মাহরামগণ ব্যতীত অন্যদের সহিত দেখা-সাক্ষাৎ, আড্ডা বা বাইরে-ভ্রমনে বের হওয়া হারাম। তবে, খুবই ‘যরুরত’ (প্রয়োজন) হলে কোন বিকল্প উপায় না থাকলে তাদের সাথে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কথা বলতে হবে। ‘মাহরাম’ শব্দের শাব্দিক অর্থ: যারা হারাম, এটা হালাল এর বিপরীত। আর শরী‘আতের পরিভাষায় ‘মাহরাম’ বলা হয় নিম্নেবর্ণিত তিন শ্রেণিকে: ক) الْمُحَرَّمَاتُ بِسَبَبِ النَّسَبِ (বংশগত/ঔরসজাত সম্পর্কের কারণে মাহরাম) খ) الْمُحَرَّمَاتُ بِسَبَبِ الْمُصَاهَرَةُ (বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরাম) গ) الْمُحَرَّمَاتُ بِسَبَبِ الرَّضَاعُ (দুধ-পানের কারণে হারাম) দ্র: ফিক্‌হী বিশ্বকোষ, কুয়েত (৩৬/২১৪) ও লিসানুল আরব ৩য় খণ্ড, পৃ: ১৩৯, ফতোয়ায়ে শামী, ২য় খণ্ড, পৃ: ১৪৫ এরা ছাড়া বাকী সবাই “গায়রে মাহরাম” (মাহরাম নহে)। এর অর্থ হল, ‘গায়রে মাহরামে’র...

ভ্যালেন্টাইন ডে – ইসলামে কি ভালবাসা নিষিদ্ধ?

“ তাঁর নিদর্শনসমূহের মাঝে আরো হলো, তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের মাঝে প্রশান্তি খুঁজে পাও। আর তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা এবং সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই এর মাঝে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে ”। [সূরা আর-রূম, আয়াত ২১] পরবর্তী আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানু ওয়াতায়ালা তাঁর আরো কিছু উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের বর্ণনা দিয়েছেন। এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হলো, আল্লাহ নারী-পুরুষের মধ্যকার এই সম্পর্ককে স্থান দিয়েছেন রাত-দিন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিদর্শনের সাথে। অতএব বুঝতেই পারছেন, ভালোবাসা মোটেই তুচ্ছ কোন বিষয় নয়! “ কোন সন্দেহ নেই, তার জন্য আমার ভালোবাসায় কোন ঘাটতি ছিল না ” - বলুন তো, কথাগুলো কার হতে পারে? এই বাক্যটি ছিল আমাদের প্রিয় নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের, যা তিনি বলেছিলেন তাঁর স্ত্রী খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে। তিনি এখানে কোন লুকোছাপা করেননি। তিনি শুধু এও বলেননি যে, আমি তাকে ভালো বাসতাম। বরং তিনি তাঁর ভালোবাসাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সবার মাঝে প্রকাশ করেছেন। সুতরাং এ থে...

আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ে কিছু মৌলিক কথা

হাম্বলী মাজহাবের বিখ‍্যাত ইমাম ইবনুল জাওযী রহ. বলেন, سمعوا أن الله تعالى خلق آدم على صورته، فأثبتوا له صورة ووجها زائدا على الذات، وعينين وفماً ولهوات، وأضراسا وأضواء لوجهه هي السبحات، ويدين وأصابع وكفا وخنصرا وإبهاما وصدرا وفخذا وساقين ورجلين، ....، فسموها بالصفات تسميةً مبتدعةً لا دليل لهم في ذلك من النقل ولا من العقل،....، سموا الأخبار أخبار صفات، وإنما هي إضافات، وليس كل مضاف صفة، فإنه قال سبحانه وتعالى ﴿وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي﴾، وليس لله صفة تسمى روحا، فقد ابتدع من سمى المضاف صفة، তারা একটা হাদীস শুনেছে। আল্লাহ তায়ালা আদম আ.কে আদমের নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। এই হাদীস শুনে তারা আল্লাহর জন‍্য আকৃতি, সত্তার অতিরিক্ত চেহারা, দু’চোখ, মুখ, চোয়াল, মাড়ির দাঁত, চেহারার আলো ও ঔজ্জ্বল‍্য, দু’হাত, আঙ্গুলসমূহ, হাতের পিঠ, কনিষ্ঠাঙ্গুল, বৃদ্ধাঙ্গুল, বুক, রান, পায়ের পিন্ডলী এবং দু’পা সাব‍্যস্ত করেছে। এগুলোকে তারা বিদয়াতী (নব-আবিষ্কৃত) পদ্ধতিতে সিফাত বা আল্লাহর গুণ নাম দিয়েছে। এগুলো সিফাত হওয়ার ব‍্যাপারে না শরীয়তের কোন দলিল আছে, না যৌক্তিক কোন প্রমাণ আছে। এজাতীয় হাদীসগুলোকে তারা ...

মুসলিম নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। পোস্টের শুরুতেই একটি কথা বলে রাখা জরুরী মনে করছি আর তা হল এই পোস্টটি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা আল্লাহ্‌র হুকুমমতো নিজেরা চলতে চান এবং নিজের পরিবারকে আল্লাহ্‌র হুকুমমতো চালাতে চান তাদের জন্য, অবশ্যই সুশীল ও তথাকথিত আধুনিকমনাদের জন্য এই পোস্টটি নয়। ইসলাম বলে নারীর ক্যারিয়ার তার ঘরে, বাহিরে নয়। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)এর হাদীস, সাহাবা(রাঃ)দের দৃষ্টান্ত, উলামাদের বক্তব্য ১৪০০ বছর ধরে সুবিদিত। কোন সত্যপন্থী আলেম নারীদের ঘরের বাহিরে কাজ করার ব্যাপারে অনুমতিজ্ঞাপক ফাতাওয়া দেননি। সেকুলারদের কথা বাদই দিলাম অনেক প্র্যাক্টিসিং মুসলিমাহ দাবিদাররাও নিজেদেরকে ক্যারিয়ারিস্ট ছাড়া যেন ভাবতেই পারেন না। ক্যারিয়ার গড়তে হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, হেন করতে হবে তেন করতে হবে কতো যুক্তি তাদের। মুসলিম নারীদের ক্যারিয়ার তার ঘরে, বাহিরে নয়। এটাই ইসলামের দাবি। কারো মানতে ইচ্ছা হলে মানুক, ইচ্ছা না হলে মানবে না। হাশরের ময়দানেই বুঝা যাবে আল্লাহ্‌র হুকুমের বিপরীতে নিজের যুক্তি দিয়ে ইসলাম বুঝার ফল। আল্লাহ্‌ সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুক। “হিজাব করে মহিলারা পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মি...

বয়স উনিশ বছর, বিয়ে করতে চাই, কিন্তু মা চায়না : কী করণীয়

প্রশ্নঃ আমার বয়স উনিশ বছর, আর আমি বিয়ে করতে চাই, কিন্তু আমার মা এটা চায়না কারণ সে মনে করে এখন আমার বিয়ের বয়স না। ইসলামে কি এটা অনুমোদিত যে একজন ছেলে তার মা-বাবার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করবে, এবং ইনশা আল্লাহ অবস্থার উন্নতি হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাপারটা গোপন রাখবে? উত্তরঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর! প্রথমতঃ এটা ইসলামে অনুমোদিত, একজন পুরুষ তার পিতামাতার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করতে পারবে, যদিও নারীদের ক্ষেত্রে বিবাহ বৈধ হবার জন্য তার ওয়ালীর বা অভিভাবকের অনুমতি নেয়াটা জরুরি। তবে বাবা-মার প্রতি সম্মান এবং সদয় আচরণ রক্ষার জন্য তাদের থেকে অনুমোদন নেয়া উচিত, কেননা এতে করে তাদের সাথে সৌহার্দ্যময় আর সুন্দর সম্পর্ক বজায় থাকবে। দ্বিতীয়তঃ আপনার উচিত আপনার মা কে বুঝিয়ে বলা কেন আপনার জন্য বিয়ে করাটা অতি জরুরি একটা বিষয়, আর তাকে মানানোর এবং তার অনুমতি নেয়ার সবরকম প্রচেষ্টা করুন। যদি তিনি এতে সায় দেন, তো আলহামদুলিল্লাহ! তবে যদি তিনি তার নিজের জিদে অটল থাকেন, তাহলে আপনি আপনার পছন্দের মেয়ে, যিনি সচ্চরিত্র এবং নিজের দ্বীনের প্রতি অটল, এমন একজনকে বিয়ে করে ফেললে আপনার উপর কোন গুনাহর ভার থাকবে না। বর্তমানকালের একটা প্রচলিত ভুল...

১০ মুহাররাম: একটি সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম দেয়ালে ঝুলে থাকা হিজরি ক্যালেন্ডারের ফটোকপিটা মনে করিয়ে দিচ্ছে আজকে মুহাররামের দশ তারিখ। হিজরি ১৪৩৫ সাল। ইতিহাসের পাতায় ভর করে চলে গেলাম ১৪৩৩ বছর আগের ঠিক এই দিনে। মদিনাতে সেদিন একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ কথোপকথন হয়। বিখ্যাত সাহাবা এবং একজন আলেম আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন যে, তাঁর চাচাতো ভাই, শেষ নবী এবং আল্লাহ কর্তৃক মানবজাতির কাছে প্রেরিত শেষ রাসূল, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদল ইহুদির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তারা ঐদিন রোযা পালন করছিলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন তারা কেন রোযা পালন করছে। তারা উত্তরে জানালো, “এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটা দিন। এই দিনে আল্লাহ তাঁর নবী মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সম্প্রদায়কে ফিরআউন ও তার লোকজনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাই মূসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরুপ এই দিনে রোযা রাখতেন । তাই আমরাও এইদিনে রোযা রাখি।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, “এই দিনে আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম) ও বনী ইসরাঈলকে ফিরআউনের বিরুদ্ধে বিজয় দান করেন।...